দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠিতে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় কারাগারে থাকা জাকির হোসেন শামীমের জামিনের পক্ষে আদালতে হলফনামা দাখিল করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ২০ জন নেতা। হলফনামায় তারা দাবি করেছেন, শামীম মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী। তবে পুলিশ তাকে যুবলীগের নেতা এবং সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
গত বুধবার (১ জুলাই) ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে শামীমের জামিন শুনানির সময় বিষয়টি সামনে আসে। জেলা ও দায়রা জজ মো. মতিয়ার রহমান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) এবং বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিনকে ভর্ৎসনা করেন। এ সময় জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাহেব হোসেন জামিন শুনানির সময় হলফনামা দাখিল এবং একজন আইনজীবীকে ভর্ৎসনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনাকে ঘিরে আদালতপাড়া ও শহরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠি জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব সুমন মণ্ডল বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রেজাউল করিম জাকির, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল শরীফ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা তরুণ কর্মকার, থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল মাহমুদসহ ১৪৬ জনকে আসামি করা হয়। পরে গত ১৬ জুন পুলিশ অজ্ঞাতনামা সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে জাকির হোসেন শামীমকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, গ্রেপ্তার শামীম বিএনপি নেতা ও এপিপি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিনের ভগ্নিপতি।
নোটারি পাবলিক অ্যাডভোকেট মোবাশ্বের আলী ভূঁইয়ার মাধ্যমে সম্পাদিত হলফনামায় স্বাক্ষরকারী ২০ নেতা নিজেদের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং মামলার সাক্ষী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তারা দাবি করেন, জাকির হোসেন শামীম ওই হামলার ঘটনায় জড়িত ছিলেন না। তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুলতান হোসেন খানের ছেলে, বর্তমানে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত।
হলফনামায় আরও দাবি করা হয়, ঘটনার দিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে জেলা বিএনপি কার্যালয় কিংবা আশপাশে শামীমকে কেউ দেখেননি। সিসিটিভি ফুটেজেও তার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বাদীকেও তার নাম জানানো হয়নি এবং এজাহারেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না। স্বাক্ষরকারীদের ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে ন্যূনতম সম্পৃক্ততার তথ্য থাকলে তারা বাদীকে তা জানাতেন এবং তিনি এজাহারভুক্ত আসামি হতেন। এছাড়া তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে গ্রেপ্তার করার আগে সাক্ষী বা বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ করেননি বলেও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান ও পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান বলেন, ‘আমরা মামলার সাক্ষী হিসেবে একজন নির্দোষ ব্যক্তির বিষয়ে এফিডেভিট দিয়েছি।’
অন্যদিকে মামলার বাদী ও পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব সুমন মণ্ডল বলেন, ‘জাকির হোসেন শামীম আমার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। তাকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুনেছি, তিনি অনেক আগে একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে তাকে আওয়ামী লীগের মিছিল-মিটিং ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সঙ্গে তার ছবি রয়েছে। যদিও তিনি আওয়ামী লীগের কোনো কমিটির সদস্য ছিলেন না, তবুও দলটির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।’
এমএম/